Laptop Tips- ল্যাপটপ কেনার প্রয়োজনীয় কিছু পরামর্শ।

0
2271
Laptop Tips
Laptop Tips

Laptop Tips-আমাদের আজকের জীবনে একটি পিসি কিংবা ল্যাপটপ এর ভুমিকা বলে শেষ করা যাবে না। এই ডিভাইসটি হয়ে উঠেছে আমাদের জীবনের একটি অবিছেদ্দ অংশ। এমন কোনও কাজ নেই যেখানে আপনার একটি কম্পিউটার এর প্রয়োজন পরবে না। 2000 সালের আগে ব্যাক্তিগত পর্যায়ে কম্পিউটার এর ব্যবহার অনেকটা বিলাসিতা বলে মনে হলেও এখন এটা হয়ে উঠেছে একদম প্রয়োজনীয় একটি সহকারি হিসাবে। শুধুমাত্র কর্পোরেট অফিস কিংবা বেবসায়িক প্রতিষ্ঠানে কম্পিউটার এর ব্যাবহার এখন আর সিমাবদ্দ নেই, বেক্তি পর্যায়ে এটির ব্যাবহার হয়ে পরেছে বাঞ্ছনীয়।

কিন্তু সমস্যা হচ্ছে বাজারে ল্যাপটপ এর রকমভেদ কোনও কমতি নেই। বাহারি ডিজাইন এবং বিভিন্ন ফিচারের ল্যাপটপ থাকার কারণে ক্রেতারা পছন্দের ল্যাপটপ কেনার জন্য এক প্রকার হিমশিম খান। বুঝতেই পারেন না, কোন ধরনের ল্যাপটপ তার জন্য সবচেয়ে ভালো হবে। আজকে আমরা চেষ্টা করবো ব্যবহার এবং প্রয়োজন অনুসারে ব্যাক্তিগত পর্যায়ের কিছু ল্যাপটপ কেনার পরামর্শ দেয়ার জন্য।

Laptop Tips/ ল্যাপটপ কেনার প্রয়োজনীয় কিছু পরামর্শ

ব্যবহারের ভিত্তিতে কিছু জিনিস মাথায় রেখে যদি আপনি ল্যাপটপ কিনতে পারেন তাহলে আপনার তেমন কোনও সমস্যায় পরতে হবে না। আমরা ব্যবহার করার ভিত্তিতে ল্যাপটপ ব্যবহার কারীকে প্রধানত কয়েকটি ক্যাটাগরিতে ভাগ করেছি এবং এই সম্পর্কে বিস্তারিত আলোচনা করেছি।

* সাধারণ ব্যাবহারকারীঃ এই ধরনের ব্যবহারকারীরা মূলত খুব কম কাজ করে থাকেন ল্যাপটপে। এরা সর্বক্ষণ ল্যাপটপে কাজ করেন না কিংবা অনেক ভারি কোনও এপ্লিকেশনও ব্যবহার করেন না। নরমাল কাজ হিসাবে আমরা এদের বলতে পারি, ইন্টারনেটে কোনও কিছু সার্চ করা, সোশ্যাল মিডিয়াতে যুক্ত থাকা, YouTube এ ভিডিও দেখা কিংবা মুভি দেখা। এছারাও, এরা মাঝে মাঝে টুকটাক MS Office ব্যাবহার করে থাকেন।

এই ধরনের ব্যবহারকারীর জন্য আদর্শ হচ্ছে মিড-রেঞ্জের ল্যাপটপ। এখানে আমরা মিড রেঞ্জ বলতে ল্যাপটপের পারফরমেন্সকে বুঝাতে চেয়েছি। আপনি যেকোনো ব্র্যান্ডের ল্যাপটপই কিনতে পারেন কেননা সব ব্র্যান্ডই ভালো এবং এদের উপর নির্ভর করতে পারবেন। একটা কথা মনে রাখবেন, কখনো ল্যাপটপের ব্র্যান্ড নিয়ে মাথা ঘামাবেন না। বাজারের সব ব্র্যান্ড বিশ্বমানের সুতরাং তাদের সার্ভিস নিয়ে সন্দেহ প্রকাশ করার কোনও অবকাশ নেই। যেটা আপনাকে দেখতে হবে সেটা হচ্ছে এর মধ্যকার হার্ডওয়্যার।

Laptop Tips-কি ধরনের হার্ডওয়্যারের ল্যাপটপ কিনবেন?

ব্র্যান্ডঃ আগেই বলছি, সব ব্র্যান্ডই ভালো। এই ক্যাটাগরির ব্যবহারকারীরা মুলত সবচেয়ে বেশী সন্দিহান থাকেন। কারণ তারা বুঝতেই পারেন না তাদের জন্য কোন ধরনের ডিভাইস ভালো হবে। বাজারে সবচেয়ে বেশী জনপ্রিয় ব্র্যান্ড হচ্ছে Dell, HP, Lenevo, ASUS, Accer ইত্যাদি। আপনি যেকোনো একটি ব্র্যান্ডের ল্যাপটপ কিনে নিতে পারেন।

প্রসেসরঃ

Processor/প্রসেসর হচ্ছে একটি কম্পিউটার এর প্রধান কেন্দ্র বিন্দু। কম্পিউটার এর মুল কাজ এখান থেকে সম্পাদিত হয়ে থাকে। তাহলে বুঝতেই পারছেন এর ভুমিকা কতোটা গুরুত্বপূর্ণ। আপনি যত ভালো প্রসেসর এর ল্যাপটপ কিনবেন আপনার ল্যাপটপ ততো বেশী ফাস্ট/দ্রুত কাজ করবে। এখানে প্রসেসর এর ক্লক-স্পীড খুবই গুরুত্বপূর্ণ। ক্লক-স্পীড হচ্ছে একটি প্রসেসর কত বেশী গতিতে কাজ করতে পারে তার একটি নির্ণায়ক মান।

  • সাধারণ ব্যাবহার করার জন্যঃ এক্ষেত্রে আপনি Intel Core i3 কিংবা Intel Core i5 এর 6th/7th জেনারেশনের প্রসেসর আছে এইরকম একটি ল্যাপটপ কিনতে পারেন। যার ক্লক-স্পীড থাকবে 2.0Ghz থেকে 3.6 Ghz পর্যন্ত। যেহেতু আপনি বেশী ভারি কোনও সফটওয়্যার কিংবা এপ্লিকেশন নিয়ে কাজ করবেন না সুতরাং আপনার এর থেকে ভালো প্রসেসরের ল্যাপটপ কেনার কোনও প্রয়োজন নেই।
  • এডভান্স ব্যাবহার করার জন্যঃ এক্ষেত্রে আপনার জন্য  Intel Core i5 কিংবা  Intel Core i7 এর 6th/7th জেনারেশনের প্রসেসর আছে এইরকম একটি ল্যাপটপ হচ্ছে আদর্শ। ক্লক-স্পীড থাকবে 2.4Ghz থেকে 3.6 Ghz পর্যন্ত।
  • গেইম কিংবা গ্রাফিক্যাল কাজের জন্যঃ যারা গেইম কিংবা গ্রাফিক্যাল কাজ করার জন্য ল্যাপটপ ব্যাবহারের চিন্তা করছেন তাদের জন্য আমরা পরামর্শ দিব Intel Core i7 এর 6th/7th জেনারেশনের প্রসেসর আছে যার ক্লক-স্পীড থাকবে 3.0Ghz থেকে 3.8 Ghz পর্যন্ত। যেহেতু আপনি গেইম কিংবা শক্তিশালী কোনও গ্রাফিক্স প্রসেসিং এর কাজ করবেন তাই আপনার জন্য এই প্রসেসর হবে আদর্শ। একটি কথা মনে রাখবেন, ল্যাপটপ এর কোনও অংশ পরিবর্তন যোগ্য নয় (RAM & HardDrive ছাড়া)। সুতরাং কেনার সময় আপনাকে অবশ্যই ভালো করে চিন্তা ভাবনা করে তারপর কিনতে হবে।
Laptop Tips- র‍্যাম/ RAM:

কার্যত রেম হচ্ছে কম্পিউটারের ডেটা প্রসেসিং এর বাহক। আপনি আপনার কম্পিউটারে যেই নির্দেশনা প্রদান করবেন সেটা প্রসেসর এর কাছে পৌঁছে দেয়া এবং প্রসেসরের কাজ সম্পাদন হবার পর সেই তথ্য আপনার কাছে নিয়ে আসা পর্যন্ত এই সামগ্রিক কাজ র‍্যাম/RAM করে থাকে। অর্থাৎ আপনি যখন আপনার কম্পিউটারে কোনও এপ্লিকেশন ওপেন করেন র‍্যাম সেই এপ্লিকেশন তখন আপনার হার্ডডিস্ক থেকে নিয়ে এসে আপনার কাছে পোঁছে দেয়। এক কথায়, কম্পিউটারের অভ্যন্তরীণ Traffic System এর কাজ র‍্যাম/RAM করে থাকে। এখন কি ধরনের র‍্যাম আপনার জন্য প্রয়োজন?

  • সাধারণ ব্যবহার করার জন্যঃ যেকোনো ধরনের কম্পিউটার ব্যবহারকারীর জন্য আমরা কমপক্ষে 4GB রেম থাকার পরামর্শ প্রদান করে থাকি। এক্ষেত্রে আপনি ল্যাপটপ কেনার আগে অবশ্যই এই ল্যাপটপ এর সর্বোচ্চ র‍্যাম কি পরিমানের ব্যাবহার করা যাবে সেই সম্পর্কে জেনে নিবেন। যেমন, মিড-রেঞ্জের ল্যাপটপ গুলোতে সাধারণত 8GB এর উপরে রেম সাপোর্ট করে না। কেনার আগে অবশ্যই আপনার পছন্দের ল্যাপটপ এর কনফিগারেশন ইন্টারনেটে অথবা বিক্রেতার কাছ থেকে সম্পূর্ণভাবে জেনে নিবেন।
  • এডভান্স ব্যবহার করার জন্যঃ এক্ষেত্রে আপনার জন্য আদর্শ হচ্ছে মিনিমাম 8GB র‍্যাম রয়েছে এই ধরনের ল্যাপটপ। এখন বাজারে DDR3 এবং DDR4 এই দুই ধরনের র‍্যাম পাওয়া যায়। আপনি যদি পারেন তাহলে 8GB-DDR4 মডিউলের র‍্যাম ব্যাবহার করবেন।
  • গেইম কিংবা গ্রাফিক্যাল কাজের জন্যঃ যারা গেইম কিংবা গ্রাফিক্যাল কাজ করার জন্য ল্যাপটপ ব্যাবহারের চিন্তা করছেন তাদের জন্য আমরা পরামর্শ দিব 16GB-DDR4 মডিউলের র‍্যাম ব্যাবহার করার জন্য। এই ধরনের ল্যাপটপে সাধারণত সরবনিম্ন 32GB কিংবা তার বেশী পরিমাণ র‍্যাম সাপোর্ট করে থাকে। কারণ, DDR4- RAM স্পীড এর তুলনায় DDR3- RAM এর তুলনায় অনেক বেশী ভালো। এই ধরনের কাজে খুব বেশী পরিমাণ তথ্য প্রসেস করতে হয় বলে আপনাকে RAM ও বাড়িয়ে নিতে হবে।
Laptop Tips- হার্ডডিস্ক/Hard-disk: 

যেকোনো ধরনের কম্পিউটারে তথ্য সংরক্ষণের জন্য হার্ডডিস্কের প্রয়োজন হয়ে থাকে। এটি অনেকটা ফোনের মেমোরি কার্ডের মতন। আপনি যত বেশী তথ্য/ডেটা রাখার পরিকল্পনা করবেন আপনার হার্ডডিস্ক এর ধারন ক্ষমতাও ততো বেশী পরিমানের হতে হবে। এখন বাজারে মোটামুটি সব ধরনের ল্যাপটপেই 500GB-1TB পর্যন্ত হার্ডডিস্ক দেয়া থাকে। আপনি আপনার প্রয়োজন অনুসারে এই ডিস্ক এর আয়তন দেখে কিনবেন তবে, সুখবর হচ্ছে আপনি পরবর্তীতে আর বড় হার্ডডিস্ক কিনে আপনার স্পেস বাড়িয়ে নিতে পারবেন। অথবা, আপনি চাইলে পোর্টেবল/Portable হার্ডডিস্ক কিনে নিতে পারেন, যা আপনার ল্যাপটপের USB তে যুক্ত করে অতিরিক্ত তথ্য বহনের সুবিধা পাবেন।

  • এডভান্স এবং গেইম কিংবা গ্রাফিক্যাল কাজের জন্যঃ আপনাকে অবশ্যই SSD নামে একটি হার্ডডিস্ক এখন বাজারে পাওয়া যায় এই ধরনের হার্ডডিস্ক ব্যাবহার করতে হবে। এই ধরনের হার্ডডিস্ক এর রীড/Read এবং রাইট/Write স্পীড নরমাল হার্ডডিস্কের থেকে 10-20% বেশী থাকে। শক্তিশালী এপ্লিকেশন কিংবা গেইম ব্যাবহার করার সময় এই SSD ব্যাবহার করলে আপনি রেসপন্স অনেক বেশী দ্রুত পাবেন। যদিও এই ধরনের হার্ডডিস্কের প্রাইস নরমাল হার্ডডিস্কের তুলনায় অনেক বেশী হয়ে থাকে। তবে এখন অনেক ব্র্যান্ডের ল্যাপটপে নরমাল হার্ডডিস্ক এবং SSD একই সাথে ব্যাবহার করা যায়। যার কারণে আপনার ডেটা স্টোরেজ নিয়ে তেমন কোনও সমস্যা হবে না।
Laptop Tips- গ্রাফিক্স কার্ড/Graphics Card:

আপনার কম্পিউটার থেকে আপনার মনিটরে যে দৃশ্য দেখতে পান সেটা গ্রাফিক্স কার্ডের কারণে পসিবল হয়ে থাকে। গ্রাফিক্স কার্ড আপনাকে, কম্পিউটারে নির্দেশকৃত তথ্যকে আপনার মনিটরে আউটপুট হিসাবে প্রেরন করে যার কারণে আপনি মনিটরে সেই প্রোগ্রাম দেখতে পান। এখন কি ধরনের গ্রাফিক্স ল্যাপটপে থাকা বাঞ্ছনীয়?

  • সাধারণ ব্যাবহার করার জন্যঃ প্রতিটি intel Processor এ সাধারণ কাজ সম্পাদন করার জন্য গ্রাফিক্সের অপশনটি দেয়া থাকে যাকে শেয়ারড গ্রাফিক্স/Shared Graphics বলা হয়। যারা সাধারণ কম্পিউটার ব্যবহারকারী রয়েছেন তাদের জন্য প্রসেসরের অভ্যন্তরীণ এই গ্রাফিক্স যথেষ্ট। নরমাল কাজ করার জন্য আপনাকে অতিরিক্ত গ্রাফিক্স আছে এই ধরনের ল্যাপটপ কেনার কোনও প্রয়োজন নেই কারণ অতিরিক্ত গ্রাফিক্স/Dedicated Graphics আছে এই ধরনের ল্যাপটপের প্রাইস তুলনামূলকভাবে অনেক বেশী থাকে।
  • এডভান্স ব্যাবহার করার জন্যঃ আপনি যদি এই ধরনের কম্পিউটার ব্যবহারকারী হয়ে থাকেন তাহলে আপনার ডেডিকেটেড গ্রাফিক্স/Dedicated Graphics রয়েছে এধরনের ল্যাপটপ পছন্দ করতে হবে। ল্যাপটপ কেনার সময় তার গায়ে দেখবেন NVIDIA/GForece কিংবা AMD Graphics এর স্টিকার/LOGO লাগানো রয়েছে। এই ধরনের ল্যাপটপে সাধারনত ডেডিকেটেড গ্রাফিক্স দেয়া থাকে যা অভ্যন্তরীণ প্রসেসরের গ্রাফিক্সের তুলনায় অনেক বেশী শক্তিশালী হয় যার কারণে আপনি আপনার ডিসপ্লেতে সূক্ষ্ম এবং ভালো কোয়ালিটির ভিডিও দেখতে পারবেন। এক্ষেত্রে NVIDIA GForexe GT 940M,940MX এই chip set এর গ্রাফিক্স রয়েছে এমন ল্যাপটপ কিনতে পারেন।
  • গেইম কিংবা গ্রাফিক্যাল কাজের জন্যঃ আপনি যদি গেইম কিংবা গ্রাফিক্স এর কাজ করার জন্য ল্যাপটপ কিনার পরিকল্পনা করে থাকেন তাহলে আপনার জন্য ভালো হবে NVIDIA GTX chipset এর গ্রাফিক্স রয়েছে এই ধরনের ল্যাপটপ। যেমন GTX 950,1050, 1070 ইত্যাদি।
Summary
Laptop Tips- ল্যাপটপ কেনার প্রয়োজনীয় কিছু পরামর্শ।
Article Name
Laptop Tips- ল্যাপটপ কেনার প্রয়োজনীয় কিছু পরামর্শ।
Description
Laptop Tips- পছন্দের ল্যাপটপ কেনার আগে আপনাকে গুরুত্বপূর্ণ এই আর্টিকেলটি অবশ্যই পড়ে নিতে হবে। আমরা আশা করি এই আর্টিকেলটি ল্যাপটপ কিনতে আপনাকে সাহায্য করবে।
Author
Publisher Name
Cholo Bohudur ll চলো বহুদূর
Publisher Logo

LEAVE A REPLY

Please enter your comment!
Please enter your name here

10 − nine =